হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী ৫ই বাহমান মাসে (২৫ জানুয়ারী) ফিক্হ শাস্ত্রের উচ্চতর ক্লাসের শুরুতেই ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর শুভ জন্মবার্ষিকী উল্লেখ করে দোয়ার মৌলিক ভূমিকা এবং তাঁর রিসালাতুল হুকুক (অধিকার সংক্রান্ত গ্রন্থ) এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “ইমাম সাজ্জাদ (আ.) মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের জন্য একটি পরিপূর্ণ কর্মসূচি উপস্থাপন করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে দোয়া কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস চাওয়া নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা যাতে মানুষ না ভুল পথে যায় এবং না অন্যের পথ রুদ্ধ করে। বরং যেন নিজের, পরিবারের ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অনুভব করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর সাপ্তাহিক দোয়াগুলো, যা সপ্তাহের প্রতিটি দিনের জন্য নির্ধারিত, একটি সুশৃঙ্খল ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম যা একজন মুমিনের জীবনকে সুসংগঠিত করে।”
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী বলেন, “এই সাপ্তাহিক কার্যক্রম ছাড়াও, তাঁর দোয়াগুলোর আরেকটি অংশ জীবনঘটিত বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাবলীর সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ, প্রতিটি অবস্থা ও ঘটনার জন্য একটি নির্দিষ্ট দোয়া রয়েছে, যা ব্যবহারিক নির্দেশনাস্বরূপ কাজ করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই দুটি দিক, অর্থাৎ সাপ্তাহিক দোয়ার কার্যক্রম ও বিভিন্ন ঘটনায় উপযোগী দোয়াগুলো, দুটি স্বতন্ত্র ও পরস্পর পরিপূরক ইলমি অধ্যায়।”
তিনি ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর ‘রিসালাতুল হুকুক’-এর উল্লেখ করে বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অধিকার সংক্রান্ত বিষয়। কিভাবে একজন রাজনীতিবিদ হব, কিভাবে সমাজবিজ্ঞানী হব, মানুষ কিভাবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, সমাজ, জনগণ ও পরিবারের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং আচরণ করবে, এবং প্রত্যেকের কী কী অধিকার রয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট বলেন, “রিসালাতুল হুকুক কেবল একটি নৈতিক গ্রন্থ নয়; বরং এটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট করার একটি ইলমি ও ব্যবহারিক দলিল।”
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সকল প্রয়োজন পূরণকারী, সকল দরজা উন্মোচনকারী ও সকল রোগের আরোগ্যদাতা; কিন্তু প্রতিটি দোয়ারই নিজস্ব স্থান ও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং ইমাম সাজ্জাদ (আ.) আমাদের এই সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন।”
তিনি ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর এই ত্রিমাত্রিক জ্ঞানভাণ্ডার—সাপ্তাহিক দোয়া, উপলক্ষ্যভিত্তিক দোয়া ও রিসালাতুল হুকুক—কে আজকের সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, “এই জ্ঞানসম্পদকে দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের জন্য অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন করতে হবে; যুবক, কিশোর, বয়স্ক ও পরিবারের সকল সদস্যের জন্য তাদের বোধগম্য ভাষায়, যাতে তাঁর নির্দেশনাগুলো বাস্তব জীবনে রূপ নিতে পারে।”
তিনি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাই এবং ফল পাই না; অথচ যদি প্রথমেই আল্লাহর কাছে চাইতাম, তিনি আমাদের পথ দেখাতেন ও নির্দেশনা দিতেন। অনেক সময় সমস্যার সমাধান অলৌকিকভাবে না হলেও আল্লাহর নির্দেশনায় এবং তাঁর ইঙ্গিতপ্রাপ্ত উপযুক্ত ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করেই হয়ে যায়।”
শেষে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থার সংরক্ষণের জন্য দোয়া করে বলেন, “আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী এই পথে (ইসলামী বিপ্লবের গতিপথে) কোনরূপ ক্ষতিসাধন করার সামর্থ্য রাখে না। ইনশাআল্লাহ এই ব্যবস্থা নিরাপদ ও সুরক্ষিতভাবে তার প্রকৃত মালিক ইমামে যামানা (আ.ফা.)-এর হাতে পৌঁছে যাবে।”
আপনার কমেন্ট